হান কাং-এর লেখা বই

দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক ও লেখিকা হান কাং-এর লেখা বইয়ে মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্টের কাব্যিক রূপায়নের স্বীকৃতি হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ২০২৪ পেয়েছেন।হান কাং (Han Kang) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম লেখক এবং এশিয়ার প্রথম নারী হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।


সাহিত্যে নোবেল পেলেন দক্ষিণ কোরিয়ার হান কাং তাই আজকের আর্টিকেলে হান কাং এর পরিচিতি, হান কাং-এর লেখা বই, হান কাং এর উপন্যাস, হান কাং এর কবিতা, হান কাং এর ছোটগল্প, হান কাং এর প্রবন্ধ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য প্রদান করব। 



হান কাং-এর লেখা বই



হান কাং-এর লেখা বই

হান কাং-এর লেখা বইয়ে মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্টের কাব্যিক রূপায়ন ফুটে উঠেছে। যা স্বীকৃতি স্বরূপ দক্ষিণ কোরিয়ার লেখিকা হান কাং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সাহিত্যে নোবেল জয়ী এবং এশিয়া মহাদেশেরও প্রথম সাহিত্যে নোবেল জয়ী নারী।


১০ অক্টোবর ২০২৪ দক্ষিণ কোরিয়ার লেখিকা হান কাং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করার পর থেকে তার নিজ দেশে ১০ লাখ কপিরও বেশি বই বিক্রি হয়েছে।জানামতে, হান কাং-এর লেখা বই এখনো বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়নি। 


কোরিয়ান ভাষায় ও ইংরেজিতে প্রকাশিত হান কাং-এর লেখা কিছু উল্লেখযোগ্য বইয়ের সম্ভাব্য বাংলা ও ইংলিশ নামের তালিকা দেওয়া হলো। কথাশিল্পী হান কাং-এর লেখা বই -এর মধ্যে হান কাং এর উপন্যাস, হান কাং এর কবিতা, হান কাং এর ছোটগল্প, হান কাং এর প্রবন্ধ প্রভৃতির তালিকা নিম্নে দেওয়া হল—



হান কাং এর উপন্যাস

  • ইয়েসুতে প্রেম (Love in Yeosu), ১৯৯৫।
  • কালো হরিণ (Black Deer),  ১৯৯৯। 
  • বেবি বুদ্ধ (Baby Buddha) ১৯৯৯। 
  • আপনার ঠান্ডা হাত (Your Cold Hands),২০০২। 
  • নিরামিষাশী (The Vegetarian),  ২০০৭।  
  • দ্য ভেজিটেরিয়ান , ডেবোরা স্মিথ দ্বারা অনুবাদিত, লন্ডন: পোর্টোবেলো বুকস , ২০১৫।
  • নতুন সংস্করণ : লন্ডন হোগার্থ / র্যান্ডম হাউস, ২০১৬। 
  • দ্যা উইন্ড ব্লো, গো (The Wind Blows, Go), ২০১০। 
  • গ্রীক পাঠ (Greek Lessons), ২০১১।  
  • গ্রীক পাঠ , ডেবোরা স্মিথ এবং এমিলি ইয়া ওয়ান দ্বারা অনুবাদিত, হোগার্থ প্রেস, ২০২৩।
  • হিউম্যান অ্যাক্টস (Human acts), Changbi ২০১৪।  
  • হিউম্যান অ্যাক্টস , ডেবোরা স্মিথ দ্বারা অনুবাদিত, লন্ডন: পোর্টোবেলো বুকস, ২০১৬। 
  • সাদা (White),২০১৬।  
  • দ্য হোয়াইট বুক (The White Book), ডেবোরা স্মিথ দ্বারা অনুবাদিত, লন্ডন : পোর্টোবেলো বুকস, ২০১৭। 
  • নতুন সংস্করণ: লন্ডন: হোগার্থ , ২০১৯। 
  • আমরা অংশ নেই, (We Are Not Part), ২০২১।  
  • উই ডু নট পার্ট , অনুবাদ করেছেন এমিলি ইয়া ওয়ান এবং পেইজ আনিয়াহ মরিস, লন্ডন: হোগার্থ প্রেস ২০২৪।



হান কাং-এর লেখা বই



হান কাং এর ছোটগল্প

  • আমার নাম সূর্যমুখী (My Name is Sunflower), ২০০২। 
  • দ্য লাল ফুলের গল্প (The Story of the Red Flower), ২০০৩। 
  • থান্ডার লিটল পরী, বিদ্যুত ছোট পরী (Thunder Little Fairy, Lightning Little Fairy), ২০০৭। 
  • টিয়ার বক্স ২০০৮। 
  • ব্রেথ ফাইটিং২০১০।
  • আমার মহিলার ফল (The Fruit of My Woman), ২০০০।
  • ফায়ার সালামান্ডার ,২০১২। 



হান কাং এর কবিতা

  • আমি ড্রয়ারে ডিনার রেখেছি (I put dinner in the drawer), ২০১৩। 


হান কাং এর প্রবন্ধ

  • ভালোবাসা এবং ভালবাসার চারপাশের জিনিস (Love and Things Around Love), ২০০৩। 
  • শান্তভাবে গাওয়ার জন্য একটি গান (A Song to Sing Quietly), ২০০৭। 


হান কাং এর জীবনী

হান কাং প্রথম দক্ষিণ কোরীয় লেখিকা হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করেছেন। হান কাং উপন্যাস ও ছোটগল্পকার হিসেবে জনপ্রিয়। ২০১৫ সালে তার লেখা উপন্যাস "দ্য ভেজিটেরিয়ান" (The Vegetarian) ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ডেবোরাহ স্মিথ। পরের বছরই উপন্যাসটির লেখক হিসেবে 'ম্যান বুকার' পুরস্কার অর্জন করেন। "দ্য ভেজিটেরিয়ান" (The Vegetarian) হান কাং-এর ইংরেজিতে অনুবাদ করা প্রথম উপন্যাস।


হান কাং-এর লেখা বই


কথাশিল্পী ৫৩ বছর বয়সী হান কাং-এর লেখিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে একটি দক্ষিণ কোরীয় সাময়িকীতে পাঁচটি কবিতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ১৯৯৫ সালে হান কাং-এর লেখা ছোট গল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ গদ্য লেখা শুরু করেন।



হান কাং-এর পরিবার ও শিক্ষা জীবন

হান কাং ১৯৭০ সালের ২৭ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজুতে জন্মগ্রহণ করেন।হান কাং-এর পরিবার সাহিত্যিক পটভূমির জন্য বিখ্যাত। তার বাবা ঔপন্যাসিক হ্যান সিউং-ওন । হান কাং-এর বড় ভাই হান ডং-রিমও একজন ঔপন্যাসিক, তার ছোট ভাই হান কাং-ইন একজন ঔপন্যাসিক এবং কার্টুনিস্ট।


গোয়াংজু বিদ্রোহের চার মাস আগে হান কাং-এর বাবা পূর্ণ-সময়ের লেখক হওয়ার জন্য তার শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে দেন। হান কাং তার পরিবারের সাথে সিউলের সুয়ুরিতে চলে আসেন। হান কাং দশ বছর বয়স থেকে তার পরিবারের সাথে সিউলের সুয়ুরিতে বেড়ে ওঠেন।


গোয়াংজু বিদ্রোহ একটি গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন যা ছাত্র ও বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক হত্যাকাণ্ডে শেষ হয়েছিল।হান কাং ১২ বছর বয়সে প্রথম গণহত্যা সম্পর্কে জানতে পারেন। বাড়িতে একটি জার্মান সাংবাদিকের তোলা ফটোগ্রাফের একটি গোপনে প্রচারিত স্মারক অ্যালবাম হান কাং আবিষ্কার করেন।হান কাং-এর এই আবিষ্কারটি মানবতা এবং সাহিত্যকর্মের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।


হান কাং ১৯৯৩ সালে হান ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরিয়ান সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। যেখানে তিনি কোরিয়ান ভাষা ও সাহিত্যে মেজর হন।হান কাং ১৯৯৮ সালে ইউনিভার্সিটি অফ আইওয়া ইন্টারন্যাশনাল রাইটিং প্রোগ্রামে নথিভুক্ত হন ।
 


হান কাং-এর বাবা তার লেখালেখির কর্মজীবন শেষ করার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন, যা তার পরিবারকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছিল। পরবর্তীতে  হান কাং তার শৈশবকে 'একটি ছোট শিশুর জন্য খুব বেশি' বলে বর্ণনা করেছিলেন।



ব্যক্তিগত জীবন

হান কিউং হি সাইবার ইউনিভার্সিটির সাহিত্য সমালোচক এবং অধ্যাপক হং ইয়ং-হিকে বিয়ে করেন।হান কাং  ২০২৪ সালে জানিয়েছেন যে, তাদের অনেক আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে কিন্তু কবে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। এই দম্পতির একটি ছেলের রয়েছে যার সাথে তিনি ২০১৮ সাল থেকে সিউলে একটি বইয়ের দোকান চালাচ্ছেন। 



হান কাং-এর কর্মজীবন

হান কাং ইয়নসেই ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক হওয়ার পর সংক্ষিপ্তভাবে মাসিক সেমেটিও ম্যাগাজিনের রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন । হান কাং-এর সাহিত্যিক কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৯৩ সালে মুনহাক-গওয়া-সাহো (সাহিত্য ও সমাজ) এর শীতকালীন সংখ্যায় "সিউলে শীত" সহ পাঁচটি কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে।তার মধ্যে  'উইন্টার ইন সোল' কবিতাটিও ছিল। কবিতা দিয়েই সাহিত্যে তার হাতেখড়ি। 


১৯৯৪ সালে ঔপন্যাসিক হিসাবে হাতেখড়ি হয়।১৯৯৪ সালে হান কাং-এর লেখা বই  সিউল শিনমুন বসন্তকালীন সাহিত্য  প্রতিযোগিতায়  "রেড অ্যাঙ্কর" সহ জয়ী হন।১৯৯৫ সালে হান কাং-হিউন নামে তার কথাসাহিত্যের আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯৫ সালে তাঁর প্রথম ছোটগল্প সংকলন প্রকাশিত হয়।তার প্রথম ছোট গল্পের সংকলন, 'আ লাভ অফ ইয়েসু' সুনির্দিষ্ট এবং কঠিনভাবে লেখনির জন্য সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল।


কোরিয়ার আর্টস কাউন্সিলের সহায়তায় হান কাং ১৯৯৮ সালে আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল রাইটিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। হান কাং সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করার জন্য পত্রিকার চাকরি ছেড়ে দেন।


হান কাং একজন কথাশিল্পীর পাশাপাশি একজন সঙ্গীত শিল্পীও।২০০৭ সালে হান কাং 'A Song to Sing Calmly' নামে একটি বই প্রকাশ করেন; যার সাথে একটি মিউজিক অ্যালবাম ছিল। হান কাং প্রথমে গাইতে আপত্তি জানালেও পরবর্তীতে নিজেই গানগুলো রেকর্ড করেন। কারণ হান জং রিম, একজন সঙ্গীতজ্ঞ এবং সঙ্গীত পরিচালক, জোর দিয়েছিলেন যে হান কাং নিজেই গানগুলি রেকর্ড করবেন। 

২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিউল ইনস্টিটিউট অফ আর্টসে সৃজনশীল লেখা বিভাগে অধ্যাপক হিসাবে কাজ শুরু করেন।


পুরস্কার এবং স্বীকৃতি

হান কাং-এর লেখা বই এর জন্য ১০ থেকে ১২ বছরের আগে থেকেই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করতে শুরু করেন। হান কাং-এর লেখা বই 'নিরামিষাশী (The Vegetarian)' চাংবি ২০০৭ সালে প্রকাশ করেন।
২০১৫ সালে হান কাং-এর লেখা উপন্যাস "দ্য ভেজিটেরিয়ান" (The Vegetarian) ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ডেবোরাহ স্মিথ। পরের বছরই উপন্যাসটির লেখক হিসেবে 'ম্যান বুকার' পুরস্কার অর্জন করেন। "দ্য ভেজিটেরিয়ান" (The Vegetarian) হান কাং-এর ইংরেজিতে অনুবাদ করা প্রথম উপন্যাস।


কোরিয়ান লেখিকা হান কাং-এর লেখা বই -এর স্বীকৃতি হিসেবে প্রাপ্ত পুরস্কার সমূহ নিম্নে দেওয়া হল—



হান কাং-এর লেখা বই



পুরস্কার

  • কোরিয়ান নভেল পুরস্কার— বেবি বুদ্ধ , ১৯৯৯। 
  • কোরিয়ান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আজকের তরুণ শিল্পী পুরস্কার - সাহিত্য বিভাগ ২০০০। 
  • ই সাং সাহিত্য পুরস্কার—  2005 - মঙ্গোলিয়ান মার্কের জন্য
  • ডংরি সাহিত্য পুরস্কার— দ্যা উইন্ড ব্লো, গো , ২০১০। 
  • মানহাই সাহিত্য পুরস্কার—  হিউম্যান অ্যাক্টস ,২০১৪। 
  • আন্তর্জাতিক 'ম্যান বুকার' পুরস্কার— নিরামিষাশী,২০১৬।
  • মালাপার্ট পুরস্কার—  হিউম্যান অ্যাক্টস , ২০১৭। 
  • কিম ইউ-জিয়ং সাহিত্য পুরস্কার—  বিদায়ের ২০১৮। 
  • সান ক্লেমেন্টে সাহিত্য পুরস্কার— নিরামিষাশী (The Vegetarian) ২০১৯।
  • প্রিক্স মেডিসিস এট্রেঞ্জার ফর উই ডোন্ট পার্ট—  ২০২৩।
  • এশিয়ান সাহিত্যের জন্য এমিল গুইমেট পুরস্কার—  উই ডু নট পার্ট, ২০২৪। 
  • শিল্পকলায় হো-আম পুরস্কার—  উই ডু নট পার্ট, ২০২৪।
  • সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার—   ২০২৪।


সাহিত্যে নোবেল পেলেন দক্ষিণ কোরিয়ার হান কাং

দক্ষিণ কোরিয়ার লেখিকা হান কাং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ২০২৪ পেয়েছেন। ১০ অক্টোবর ২০২৪ সুইডেনের স্টকহোম থেকে এ বছরের সাহিত্যে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি। 


হান কাং-এর লেখা বই


নোবেল পুরস্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্টের কাব্যিক রূপায়নের স্বীকৃতি হিসেবে হান কাং নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।১১ অক্টোবর রাজধানী সিউলে নিজের বাসায় ছেলের সঙ্গে রাতের খাবার শেষ করার পরপরই নোবেল পাওয়ার খবরটি জানতে পান। পরে নোবেল পুরস্কার কমিটির পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলা হয়।


হান কাং প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ান হিসেবে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন।হান কাং এশিয়ার প্রথম নারী লেখিকা হিসেবে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন।১৯০১ সাল থেকে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। হান কাং বিশ্বের ১৮তম নারী হিসেবে সবচেয়ে মর্যাদাবান পুরস্কার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।


হান কাং নোবেল পুরস্কার হিসেবে পাবেন, একটি সোনার নোবেল মেডেল, একটি সনদ ও মোট ১১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। বর্তমানে এর বাজারমূল্য ১০ লাখ ৬৭ হাজার মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পুরস্কার হান কাং-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে ।


হান কাং-এর লেখা বই 'দ্য ভেজিটেরিয়ান' উপন্যাসের জন্য ২০১৫ সালে আলোচনায় আসেন।হান কাং-এর লেখা বই 'দ্য ভেজিটেরিয়ান' উপন্যাসের জন্য ২০১৬ সালে ম্যান বুকার পুরস্কারে ভূষিত হন।


হান কাং-এর লেখা বইয়ে মানবজীবনের দুঃখ-কষ্টের নানা দিক ও ইতিহাসের সঙ্গে এর সম্পর্ক প্রকাশ পেয়েছে।হান কাং-এর লেখা বইয়ে মানুষের মানসিক এবং শারীরিক যন্ত্রণা উঠে এসেছে বার বার। ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলে, তা খুঁজেছেন বার বার। তার পর ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষের জীবন ও অনুভূতিগুলোকে খুব তীক্ষ্ণ ও কাব্যিকভাবে বর্ণনা করেছেন।লেখালেখির পাশাপাশি হান কাং শিল্প ও সঙ্গীতের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।


২০১৪ সালে হান কাং-এর লেখা বই 'হিউম্যান অ্যাক্ট' ঐতিহাসিক ঘটনার উপর নির্ভর করে লেখা। ১৯৮০ সালে গুয়াংজুতে বিক্ষোভ গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন যা ছাত্র ও বেসামরিক নাগরিকদের সামরিক হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিলেন বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন পড়ুয়ারাও। সেই ভয়ঙ্কর ঘটনা, হিংসা, প্রতিরোধ উঠে এসেছে হান কাং-এর লেখা 'হিউম্যান অ্যাক্ট' বইয়ে।


২০২৩ সালে রয়্যাল সোসাইটি অফ লিটারেচার ইন্টারন্যাশনাল রাইটার নির্বাচিত হন হান কাং। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস - এর "২১ শতকের ১০০ সেরা বই" -এ দ্য ভেজিটেরিয়ান ৪৯তম স্থান অর্জন করেন।


সুইডিশ একাডেমি ২০২৪ সালে হান কাং-এর লেখা বইয়ে "তীব্র কাব্যিক গদ্য যা ঐতিহাসিক আঘাতের মুখোমুখি হয় এবং মানব জীবনের ভঙ্গুরতা প্রকাশ করে" তার এই কাব্যিক রূপায়ণের স্বীকৃতি হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে। 

Post a Comment

0 Comments